বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন: ‘বহিরাগত’ ইস্যু ও ৮ টিকিট প্রত্যাশীর দলত্যাগ
আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি: উদারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিল। দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মী এবং ৮ জন টিকিট প্রত্যাশী একযোগে বিজেপি ত্যাগ করায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এখন অস্থিরতা তুঙ্গে। কাছাড় জেলা কার্যালয়ে গিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগের ঘোষণা করেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
![]() |
| 20th March 2026 |
আদর্শ বনাম বর্তমান রাজনীতি
দলত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন নবারুণ চক্রবর্তী, শামু রায়, জয়জ্যোতি দে, বাসুদেব শর্মা, হেমাঙ্গ শেখর দাস, বিশ্বজিৎ দাস এবং কাঞ্চন সিংয়ের মতো পরিচিত মুখেরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তারা ক্ষোভের সাথে জানান যে, তারা অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দলের দুঃসময়েও তারা পাশে ছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
ক্ষোভের মূলে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী
উদারবন্দ কেন্দ্রে বিদ্রোহের মূল কারণ হলো লক্ষ্মীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজদ্বীপ গোয়ালাকে টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ:
স্থানীয় কর্মীদের অবহেলা: বছরের পর বছর যারা মাঠে কাজ করেছেন, তাদের বদলে অন্য কেন্দ্র থেকে আসা প্রার্থীকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নীতিগত সংঘাত: ‘বহিরাগত’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়াকে তারা দলের মূল নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
ত্যাগের অবমূল্যায়ন: দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কোনো মূল্য দল দিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।
"আমরা দলের জন্য ত্যাগ সহ্য করেছি, কিন্তু এই অবিচার সহ্য করব না।" — দলত্যাগীদের কণ্ঠস্বর।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব
বিজেপি নেতৃত্ব এই গণ-দলত্যাগ নিয়ে এখনও নীরব থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি আসন্ন নির্বাচনে দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
প্রভাবের ক্ষেত্র. সম্ভাব্য ফলাফল
ভোটব্যাংক. বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনুগামীদের ভোেট অন্য দিকে ঘুরে যেতে পারে।
বিরোধী শিবির. কংগ্রেস বা অন্যান্য দল এই কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিতে পারে।
দলীয় সংহতি. তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেষ কথা
উদারবন্দের এই বিদ্রোহ কী কেবলই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এটি নির্বাচনের ফলাফলে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে? বিজেপি নেতৃত্ব কি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারবে, নাকি এই সুযোগে বিরোধীরা বাজিমাত করবে—তা সময়ই বলবে। তবে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ পরিস্থিতি সামলানো এখন বিজেপির জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
আপনি কি মনে করেন উদারবন্দে বহিরাগত প্রার্থী দেওয়া বিজেপির জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
"মা যদি ১ দিনও বাঁচে তাতেই আমি খুশি"—মায়ের জন্য সন্তানের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ!
সমাপ্ত হলো "সুরক্ষিত শৈশব, সোনালী অসম" ৯০ দিনের সচেতনতা অভিযান

No comments: